আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উইলিস্টন জলাধারে হঠাৎ ভেসে ওঠা গাছপালায় ঢাকা একটি রহস্যময় দ্বীপ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দ্বীপটির অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর কিছুদিন সেটি আর দেখা যায়নি। পরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে আবারও দ্বীপটির সন্ধান পাওয়া গেছে।ম্যাকেঞ্জি শহরের উত্তরে অবস্থিত বিশাল এই জলাধারে ভাসমান দ্বীপটির উপস্থিতি প্রথমে স্থানীয়রা দেখতে পান। পরে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ছবি বিকৃত করার সুযোগ থাকায় শুরুতে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক ছিল কর্তৃপক্ষ। তবে স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে দ্বীপটির বাস্তব অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়।স্যাটেলাইট চিত্রে দ্বীপটিকে প্রায় ১৪০ মিটার লম্বা ও ৭০ মিটার চওড়া দেখা যায়। অর্থাৎ এর আয়তন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ বর্গমিটার, যা প্রায় দুটি ফুটবল মাঠের সমান।বিসি হাইড্রোর মুখপাত্র বব গ্যামার জানান, দ্বীপটি সম্ভবত কয়েক বছর ধরে জলাধারের তীরবর্তী এলাকায় জমে থাকা গাছের গুঁড়ি ও কাঠের আবর্জনার ওপর উদ্ভিদ জন্মানোর ফলে তৈরি হয়েছে। জলাধারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সেটি তীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেসে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।দ্বীপটি প্রথমে ফিনলে বে-সংলগ্ন এলাকায় দেখা গিয়েছিল। পরে স্যাটেলাইট তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এটি প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেসে গিয়ে উইলিস্টন জলাধারের ওসপিকা আর্মের তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে ঠেকেছে। প্রায় ১৫ দিনে এই দূরত্ব অতিক্রম করেছে দ্বীপটি।বিসি হাইড্রো জানিয়েছে, দ্বীপটির কারণে জলাধারের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে দ্বীপটি গাছের গুঁড়ি ও পচনশীল কাঠের তৈরি হওয়ায় এটি অস্থিতিশীল। তাই কৌতূহলী মানুষকে দ্বীপটির ওপর ওঠা বা হাঁটার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।বিরল এই প্রাকৃতিক ঘটনা ইতোমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী ও পরিবেশ গবেষকদেরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দ্বীপটি কীভাবে তৈরি হলো এবং এত দূর কীভাবে ভেসে গেল, তা নিয়ে আরও অনুসন্ধান চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।