স্টাফ রিপোর্টার:
ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশ সুপার (টিআর) আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে (পিপিএম-বার) সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিরপুর সেনানিবাসে চলমান ডিএসসিএসসি-২০২৬ কোর্সে অংশ নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার ডোপ টেস্ট করা হয়। ওই পরীক্ষায় তার মূত্রে বেনজোডায়াজেপিনস (বিজেডও) এবং অ্যামফিটামিন/মেথঅ্যামফিটামিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ ধরনের বিষয় ‘অসদাচরণ’-এর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিন বর্তমানে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। তিনি মিরপুর সেনানিবাসে চলমান ‘ডিএসসিএসসি-২০২৬’ কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন। কোর্স চলাকালে গত ৭ জুন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।
সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর অংশ হিসেবে তার মাদক পরীক্ষা বা ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মূত্রে বেনজোডায়াজেপিনস (BZO) এবং অ্যামফিটামিন/মেথঅ্যামফিটামিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিএসসিএসসি কোর্সে অংশগ্রহণের সময় এ ধরনের পরীক্ষার ফলাফল কোর্সের শৃঙ্খলার পরিপন্থি। এ কারণে বিষয়টি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট থেকে তার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তকালীন আ ফ ম নিজাম উদ্দিন বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে এ সময়ে প্রযোজ্য অন্যান্য বিধিবিধানও কার্যকর থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ বা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কোর্সে অংশগ্রহণের সময় কোনো কর্মকর্তা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।