Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
উত্তর যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, ‘গ্যাস জাহাঙ্গীরের’ বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণের দাবি - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

উত্তর যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, ‘গ্যাস জাহাঙ্গীরের’ বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন উত্তর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ অবৈধ সংযোগ বাণিজ্যের নেপথ্যে স্থানীয়ভাবে ‘গ্যাস জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে। তার নির্দেশ ও ছত্রছায়ায় রাতের আঁধারে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে তিতাসের মূল লাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কোনো পদে না থেকেও জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তিতাসের গ্যাসলাইন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার অনুমতি বা ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া নতুন সংযোগ দেওয়া কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইন মেরামতের কাজও করা যায় না বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সরকারিভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পরও বিবির বাগিচার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গোপনে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এসব সংযোগের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর রাতের বেলায় রাস্তা খুঁড়ে কিংবা বিদ্যমান গ্যাসলাইন থেকে পাইপ সংযোগ দেওয়া হয়।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অবৈধ সংযোগ নিতে রাজি না হলে বৈধ গ্যাস সংযোগ বা স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। এতে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।একজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “সরকারিভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও জাহাঙ্গীর নিজেকে তিতাসের কর্মকর্তা কিংবা বড় ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে কাজ করছেন বলে আমরা শুনেছি। তিনি আশ্বাস দেন, প্রশাসন বা তিতাস কোনো সমস্যা করবে না। তার প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছে।”স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাতে সরকারি রাস্তা খনন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই রাস্তা কেটে পাইপ বসানোর পর তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তা সংস্কার করা হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

তাদের অভিযোগ, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা কাটার কারণে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হচ্ছে। এতে পথচারী, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে। বর্ষাকালে এসব স্থানে পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা খনন ও পুনঃসংস্কারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধ গ্যাসলাইন স্থাপনের নামে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অবৈধভাবে গ্যাসলাইন স্থাপন এবং নিম্নমানের পাইপ ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা গ্যাসলাইন থেকে কোনো ধরনের লিকেজ বা ত্রুটি দেখা দিলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকরাও অনেক সময় পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ পাচ্ছেন না। ফলে নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বৈধ গ্রাহক।সচেতন নাগরিকদের মতে, আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গ্যাসলাইন স্থাপন শুধু আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জননিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাসলাইনের ত্রুটি বা লিকেজ হলে দ্রুত বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, উত্তর যাত্রাবাড়ী ও বিবির বাগিচা এলাকায় কোথায় কোথায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে, কারা এসব সংযোগ দিচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি রাতের আঁধারে সরকারি রাস্তা খনন করে পাইপ বসানোর অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর আরও দাবি, ‘গ্যাস জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ‘গ্যাস জাহাঙ্গীর’-এর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। একইভাবে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *