মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা মডেল থানাধীন শিকদার বাজার, গাবতলী ও টাগারপাড় এলাকায় একটি বাসায় সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও রূপার অলংকার উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ফতুল্লা থানাধীন শিকদার বাজার, গাবতলী ও টাগারপাড় এলাকায় একটি বাসায় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা কৌশলে প্রবেশ করে। এ সময় নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, রূপার অলংকার ও সিসি ক্যামেরার ডিভিআরসহ আনুমানিক ১ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ভিডিও ফুটেজে ঘটনার দিন বাড়ির ড্রাইভার হোসেন (৪২)-কে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়িতে প্রবেশ করতে এবং কিছুক্ষণ পর বের হয়ে যেতে দেখা যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুব আলমের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) পলাশ বাউনের নেতৃত্বে এসআই মিলন ফকিরসহ ফতুল্লা মডেল থানার একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে শিকদার বাজার, গাবতলী ও টাগারপাড় এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি হোসেন (৪২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেরপুর সদর থানার চাপাতলী এলাকার কালামের ছেলে এবং বর্তমানে ফতুল্লা থানাধীন চানমারি এলাকার জাকিরের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির হেফাজত থেকে চুরি মামলার ৪৯ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৮ ভরি ১৪ আনা রূপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো অপরাধ দমনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।