Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিরোধ তীব্র, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিরোধ তীব্র, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক:

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। এর জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।ইসরায়েলের এই প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।যুক্তরাজ্যসহ মোট ১২টি দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এর সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে।লন্ডনের কর্মকর্তারা জানতেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের নীতিতে এমন পরিবর্তনের ফলে ইসরায়েলের কাছ থেকে বৈরী প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তবে প্রতিক্রিয়াটি যে এত দ্রুত ও তীব্র হবে, তা হয়তো তাঁরা ভাবেননি।ইসরায়েল গত সপ্তাহে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকেও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীরে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো এবং রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা হতো। আর গত বছর প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টারের কাজ ছিল গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা ফেরানো ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করা।যুক্তরাজ্য ও আরও ১১টি দেশের নেওয়া পদক্ষেপে ইসরায়েল কতটা উদ্বিগ্ন, এসব পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে তা স্পষ্ট হয়েছে। পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্য ইসরায়েলের মোট রপ্তানির বড় অংশ নয়। তবে এসব পণ্যকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স ও কানাডাও রয়েছে।বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে আসছে। তবে এত দিন এসব বসতিতে উৎপাদিত বা চাষ করা পণ্য নিষিদ্ধ করার পথে যায়নি তারা।২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক রায়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতিসহ পুরো দখলদারত্বকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্বকে বেআইনি মনে করার বিষয়টির প্রতিফলন থাকা উচিত।তিনি বলেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলে এরাই দায়ী। ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শুধু পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়, বসতিগুলোয় নির্মাণকাজ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা অর্থায়নে সহায়তা করে—এমন কোম্পানিগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে এমন অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেগুলো দখলদারত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।এসব পদক্ষেপকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন শুরুর পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মিলিব্যান্ড। এর ফলে ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্রিটেনের পদক্ষেপগুলো ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে সহায়তা করবে।তবে জোমলটের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের দখলদারত্ব শেষ হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট গত বছর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে অধিকাংশ ইসরায়েলি তাঁর ওই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা ও বিভিন্ন দেশের পদক্ষেপ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ, ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং এখন বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।১৯৯১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক শামিরের সরকারের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের নিশ্চয়তা আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কারণ, শামির সরকার ওই অর্থ দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কাজে ব্যবহার করবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নিতে আগ্রহ দেখাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *