সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এ সুবিধা পাবেন। ফলে কোনো সরকারি কর্মচারীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে মোট ৬ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলেও সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্যই এ ভাতা দেওয়া হবে।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণসংক্রান্ত নতুন পে-স্কেলের গেজেটে এ সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ গেজেট প্রকাশ করা হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এ ধরনের ভাতা এবারই প্রথম দেওয়া হচ্ছে।

গেজেট অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ ভাতার অর্থ দেওয়া হবে। তবে একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য অন্য কোনো সরকারি ভাতা গ্রহণ করা হলে একই সঙ্গে এ ভাতাও নেওয়া যাবে না।

নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী সুবিধা পাবেন। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের কতজনের সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী, সে বিষয়ে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে এখন থেকে এ-সংক্রান্ত তথ্য অর্থ বিভাগের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা আইবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের তথ্য সংরক্ষণ ও ভাতা প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান হিসেবে কীভাবে যাচাই করা হবে—এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই যাচাই-বাছাই করা হবে।

সরকারি চাকরিজীবীর মা-বাবা যত দিন চাকরিতে থাকবেন, তত দিন এই ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য ভাতা চালুর দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন সংশ্লিষ্টরা। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সবুজ সংকেত দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এ সুবিধা নির্ধারণের ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা পরিবারগুলো তাদের সন্তানের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যায় এ অর্থ ব্যয় করতে পারবে। এতে পরিবারগুলো কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবে এবং ভাতাটি এসব ব্যয়ের একটি অংশ পূরণে সহায়তা করবে।

তবে এ সুবিধা পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কী ধরনের সনদ বা নথি প্রয়োজন এবং ভাতা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *