লোহাগাড়ার চরম্বায় যুবদলের নাম ব্যবহার করে পাহাড় কাটার অভিযোগ

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে যুবদলের কর্মী পরিচয় ব্যবহার করে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কালো পর্দা দিয়ে ঘেরা একটি বিশাল পাহাড় স্কেভেটর দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধু ফকির পাড়া এলাকায় একটি পাহাড় স্কেভেটর দিয়ে কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবক সেখানে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত।

পাহাড় কাটার বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার খতিয়ানভুক্ত জায়গায় বাড়ি করার জন্য পাহাড়টি কাটার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু স্থানীয় সৈয়দ মেম্বার ও জিয়াবুল পাহাড়টি কেটে দিতে হলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তাই আমি নাজমুল মোস্তফা আমিন ভাইকে জানালে তিনি আমাকে ইউএনও’র মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে দেন।”

তবে নাজমুল মোস্তফা আমিনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে পাহাড় কাটার অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, “আমি আমার কোনো কর্মীকে অন্যায়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিই না। এ কারণে আমার কাছ থেকে অনেকেই সরে গেছে। কিন্তু আমি পাহাড় কাটা ও সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমি কখনো কোনো কর্মী বা কাউকে পাহাড় কাটার অনুমতি ইউএনও থেকে নিয়ে দেওয়ার তো দূরের কথা, আমি কখনো প্রশ্রয়ও দিইনি। আমার কোনো কর্মী যদি এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, আমি এর কঠোর ব্যবস্থা নেব। আপনারাও তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে নিউজ করুন।”

এদিকে পাহাড় কাটার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বায়েজিদ বিন আকন্দের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাহাড় কাটার কোনো সুযোগ নেই এবং প্রশাসন থেকে কাউকে এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিবেশ ও পাহাড় সুরক্ষায় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *