অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বলীপাড়ার ১৩ পরিবারের পাশে মীর হেলাল

মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো ১৩টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। তাঁর পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বলীপাড়া ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এসব ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যখন কঠিন সময় পার করছে, তখন তাদের পাশে দাঁড়াতেই এ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ জাবেদ রেজা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা শোনেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ত্রাণ বিতরণকালে মোঃ জাবেদ রেজা বলেন, বলীপাড়া বাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এক মুহূর্তের মধ্যে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপার্জনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়েছেন। আগুনে অনেকের ব্যবসার পুঁজি, মালামাল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের একা ফেলে রাখা যায় না।

তিনি বলেন, দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। অগ্নিকাণ্ডে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কষ্ট ও দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

জাবেদ রেজা আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ব্যবসা পুনরায় চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনও জরুরি। আগুনে দোকানপাট ও মালামাল হারানো ব্যবসায়ীরা যাতে আবার ব্যবসা শুরু করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বাজারে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য লুসাই মং, জসিম উদ্দীন, চনু মং মার্মা, মা সেতু তংসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে থানচি উপজেলার বলীপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বাজারের ১৩টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে দোকানের কাঠামো, ব্যবসার মালামাল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দোকানের কাঠামো ও মালামালসহ অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা রাতারাতি তাদের ব্যবসার পুঁজি ও সম্পদের বড় একটি অংশ হারান।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, রাতে দোকানগুলো বন্ধ থাকায় আগুন লাগার সময় ভেতরে থাকা মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়নি। ফলে মুহূর্তের মধ্যে দোকানের মালামাল ও ব্যবসার প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগুনে পুড়ে যায়। এতে তারা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে বলীপাড়া বাজারে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা নয়, দোকান পুনর্নির্মাণ, ব্যবসার পুঁজি পুনরুদ্ধার এবং বাজারের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এবং পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে পারবেন—এমন সহযোগিতার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *