সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় কয়েকজন যুবকের অস্ত্রসদৃশ বস্তু হাতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে ধারণ করা ওই ভিডিওটি সম্প্রতি নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে সংশ্লিষ্ট যুবকদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কামারখন্দ থানা পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে দেখা অস্ত্রগুলো প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র নয়; এগুলো কাঠ দিয়ে তৈরি খেলনা অস্ত্র। অ্যাকশনধর্মী ভিডিও তৈরির অংশ হিসেবে এসব খেলনা অস্ত্র ব্যবহার করে ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন ওই যুবকেরা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তামিল সিনেমার আদলে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকশনধর্মী ও বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করে আসছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের তৈরি বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশের পর সিরাজগঞ্জের বাইরেও দর্শকদের মধ্যে সেগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
তবে প্রকাশ্য স্থানে অস্ত্রসদৃশ বস্তু হাতে নিয়ে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট যুবকদের থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জনসম্মুখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়।
ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়া এস কে শাহিন বলেন, জামতৈল স্টেশনে ধারণ করা ভিডিওটি প্রায় পাঁচ মাস আগের। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তাদের থানায় ডেকে নিয়ে বিষয়টি জানতে চায়। তারা পুলিশের কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। ভবিষ্যতে জনসম্মুখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার কথাও জানিয়েছেন তারা।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী বলেন, তাদের কাছে অস্ত্র হাতে মহড়ার একটি ভিডিও আসে। পরে যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওতে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো কাঠ দিয়ে তৈরি খেলনা অস্ত্র। ভিডিওটিও প্রায় পাঁচ মাস আগের। ওই যুবকেরা দীর্ঘদিন ধরে ভিডিও তৈরি করেন। তাদের থানায় ডেকে এনে সতর্ক করা হয়েছে। তারা মুচলেকা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে জনসম্মুখে এভাবে খেলনা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে ভিডিও করবেন না বলে জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা বা বেশি ভিউ পাওয়ার জন্য অস্ত্রসদৃশ বস্তু প্রদর্শন করে কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার না করতে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। ভিডিওটি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।