মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে—এসব বিষয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
মাহদী আমিন জানান, আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাতায়াতের দুই দিন বাদে মাঝখানে মাত্র চার কর্মদিবস নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে তিনি বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।
সফরসঙ্গীদের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার ছোট একটি বহর নিয়ে নিউইয়র্কে এসেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৫ জন রয়েছেন। এর বাইরে অত্যাবশ্যকীয় মিডিয়া, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্টাফ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হবে। সকাল ৯টায় তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন। এর আগে সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে একটি ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে’ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বনেতারা বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরছেন। এবারের অধিবেশনের সামগ্রিক প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়া। তাই আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।