স্টাফ রিপোর্টার:
যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় ‘আওলাদ’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যারা লুটতরাজ ও চাঁদাবাজি করত, তাদের কেউ কেউ এখনো একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানা মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগকারীরা বলেন, অতীতে তারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে ‘আওলাদ’ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে যাত্রাবাড়ীকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
যাত্রাবাড়ী থানা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি হাজী ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করেছি। এই চাঁদাবাজ আওলাদ ও তার সঙ্গীরা দীর্ঘ ১৭ বছর চাঁদাবাজি করেছে, এখনো করবে—এটা হতে পারে না।”
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
যাত্রাবাড়ী থানা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন খান, সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফ, যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিসহ একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, আওলাদ ও তার সহযোগীদের চাঁদাবাজির কারণে তারা যাত্রাবাড়ীতে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না।
তারা বলেন, ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা থানা প্রশাসনের কাছে অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, যাত্রাবাড়ী থানা শ্রমিক লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘আওলাদ’ নামে ওই ব্যক্তির কথিত চাঁদাবাজি ও হয়রানির কারণে মৎস্য ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।