মোঃ আনজার শাহ :
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রযাত্রার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সাংবাদিকতার চিরচেনা ধারা। সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ভিডিও ধারণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মুঠোফোন আজ একজন সাংবাদিকের হাতে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সময়ের এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মফস্বল সাংবাদিকদের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাংবাদিকতা, ভিডিও সাংবাদিকতা ও মোবাইল সাংবাদিকতা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
সোমবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান।
স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান বার্তা সম্পাদক মুরসালিন নোমানী। জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পারভীন সুলতানা রাব্বীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান) ড. মো. মারুফ নাওয়াজ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার এই দ্বিতীয় ব্যাচে অংশ নেন বাসসের মোট ৪০ জন মফস্বল সাংবাদিক। দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাংবাদিকতার মৌলিক ও ব্যবহারিক নানা দিকের পাশাপাশি ভিডিও সাংবাদিকতার কৌশল এবং মোবাইল সাংবাদিকতার আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের।
প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের এই বিস্তৃত পরিসরে একজন সাংবাদিকের হাতে থাকা ক্ষুদ্র যন্ত্রটি কীভাবে সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই, ধারণ ও পরিবেশনের কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে, প্রশিক্ষণে তুলে ধরা হয় তার বিভিন্ন দিক। একইসঙ্গে আলোচনা হয় মুঠোফোনে উন্নতমানের ভিডিও ধারণ, দৃশ্য বিন্যাস, শব্দগ্রহণ, সংবাদ উপস্থাপন এবং মোবাইলভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির আধুনিক কলাকৌশল নিয়েও।
প্রশিক্ষণার্থীদের দ্রুততার সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই, নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয় কর্মশালায়। মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিস্থিতি মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা এবং স্বল্প সময়ে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির ব্যবহারিক দিকগুলোও ছিল প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবাদমাধ্যমের এই প্রতিযোগিতামূলক সময়ে মফস্বল সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ সাংবাদিকদের দ্রুত ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনে সহায়ক হবে, পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো আরও তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার পথও প্রশস্ত হবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মফস্বল সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করবে। ফলে দেশের প্রত্যন্ত জনপদ থেকেও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার পথ হবে আরও সুগম।