বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর দক্ষিণখানের পূর্ব আজমপুর জামতলা এলাকায় বায়তুল মামুর জামে মসজিদের দেয়াল ভেঙে মসজিদের একাংশ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী দুই রাজমিস্ত্রিকে হাতেনাতে আটক করেন। খবর পেয়ে দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বায়তুল মামুর জামে মসজিদ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব শেখ মাসুম হায়দার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী, মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব আজমপুর জামতলা এলাকায় বায়তুল মামুর জামে মসজিদটি অবস্থিত। তিনতলা এ মসজিদটি প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত। সোমবার দিবাগত রাতে কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে উত্তর পাশের দ্বিতীয় তলার মূল দেয়ালের একাংশ ভাঙার কাজ শুরু করেন।
মধ্যরাতে দেয়াল ভাঙার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় রাজমিস্ত্রি মো. হানিফ ও মো. রিপনকে হাতেনাতে আটক করেন তারা। পরে মসজিদ আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং বিষয়টি দক্ষিণখান থানা পুলিশকে জানানো হয়।
মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই রাজমিস্ত্রি জানান, তারা জনৈক ফিরোজ মিয়ার নির্দেশে মসজিদের মূল দেয়ালের একাংশ ভেঙে দখলের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাদের কয়েকজন সহযোগী স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আটক দুই রাজমিস্ত্রি আরও দাবি করেন, এ কাজ না করলে তাদের মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বায়তুল মামুর জামে মসজিদের উত্তর পাশের একাংশের জমি নিজের বলে দাবি করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দা দানিছ মাস্টারের ছেলে মো. ফিরোজ মিয়া। সুযোগ পেলেই লোকজন নিয়ে এসে মসজিদের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ ও তৎকালীন মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বর্তমান মসজিদ কমিটির সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করে ফিরোজ মিয়া মসজিদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার উত্তর পাশের একাংশে নির্মাণকাজ শুরু করেন। কয়েকদিন কাজ চলার পর বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসে। এ ঘটনায় সাধারণ মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। ভেঙে দেওয়া কমিটির সভাপতি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার ফখরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম।
এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার জুমার নামাজের পর শত শত মুসল্লি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ১১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় বলে জানা গেছে। মসজিদ কমিটির দাবি, গত ১৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ফিরোজ মিয়ার নির্দেশে তার লোকজন মসজিদের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করলে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী তাদের হাতেনাতে ধরে কাজ বন্ধ করে দেন।
বর্তমান বায়তুল মামুর জামে মসজিদ আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান লিটন এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শেখ মাসুম হায়দার।
শেখ মাসুম হায়দার ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান লিটন অভিযোগ করে বলেন, মধ্যরাতে কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদের দেয়াল ভেঙে একাংশ দখলের চেষ্টা চালান। এ সময় রাজমিস্ত্রি মো. হানিফ ও মো. রিপনকে এলাকাবাসী হাতেনাতে আটক করেন। তারা দোষ স্বীকার করায় পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে ফিরোজ মিয়ার লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, ঘটনার পর থেকে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় কিছুটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত মো. ফিরোজ মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার এসআই মো. সোহেল বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।