পার্বতীপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে যৌতুকের দাবিতে ফাল্গুনী রায় (২১) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্বামী কনক রায়কে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ছোট নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফাল্গুনী রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কিসামতপুর ঘাটাবিল পাসারিপাড়ার নবকান্ত রায়ের মেয়ে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ছোট নারায়ণপুর গ্রামের কনক চন্দ্র রায়ের সঙ্গে ফাল্গুনীর বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ফাল্গুনীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা এবং দীর্ঘদিন বাবার বাড়িতে যেতে না দেওয়ার অভিযোগও করেন স্বজনরা।
স্বজনদের ভাষ্য, মঙ্গলবার পারিবারিক বিষয় নিয়ে ফাল্গুনীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে লাঠি ও লোহার শাবল দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে ফাল্গুনীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পার্বতীপুরের ল্যাম্ব মিশনারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রংপুরে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ফাল্গুনী আহত হওয়ার পর তার বাবার বাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
নিহতের বাবা নবকান্ত রায় বলেন, ‘এলাকাবাসীর কাছে শুনেছি, লোহার শাবল দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। যৌতুকের জন্য তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এমনকি আমাদের বাড়িতেও তাকে আসতে দিত না তারা। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কনক রায়কে গ্রেপ্তার করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।