আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য চার থেকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছে তেহরান। শর্তগুলো মেনে না নিলে প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই।
২৩ সেপ্টেম্বর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই এসব কথা বলেন। তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শর্তগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
রেজাই বলেন, ইরানের শর্ত মেনে নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। শর্তগুলো গ্রহণ করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালিটি ইরানের জন্য আলোচনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার।
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনায় ফেরার জন্য ইরান কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে।
রেজাইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, শর্ত পূরণের আগে তেহরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইরানের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। এরপরই কূটনৈতিক আলোচনার পথ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এ পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তেলের বাজারে এ বিষয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা দেখা গেছে।
এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ২২ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানো এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নিলে হরমুজ প্রণালি এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরান প্রস্তুত থাকতে পারে।
তবে একই সময়ে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শর্ত পূরণের ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
এদিকে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা না করে। রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন সামরিক তৎপরতায় সহযোগিতা করলে তেহরান তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই নতুন সময়সীমা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে যোগাযোগ বাড়ছে।