স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ৯ নম্বর সাপলেজা বাজারে দীর্ঘদিনের মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিরোধ, অর্থ দাবির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে ঘিরে শামীম পহলানকে নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা অভিযোগ ও মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাপলেজা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মাংসের ব্যবসা করে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে শামীম পহলানের বিরোধের সূত্র ধরে অর্থ দাবির অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের একজন ইদ্রিস হাওলাদার দাবি করেছেন, তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিটি গরু জবাইয়ের জন্য প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে তাঁদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা থেকে সরে যেতে হয় এবং একই স্থানে নতুন মাংসের দোকান চালু করা হয়। এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়ার প্রকৃত কারণ কী এবং একই স্থানে নতুন ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো?
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শামীম পহলান। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়েই তাঁদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাদ্রাসা শিক্ষককে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলার কপি তালাশ বিডির কাছে
শামীম পহলানকে ঘিরে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও সাংবাদিক আব্দুস কুদ্দুস খানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় করা মামলা।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের চাঁদরাতে আব্দুস কুদ্দুস খানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে পিরোজপুরে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ঘটনায় শামীম পহলানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ওই মামলার এজাহারের কপি তালাশ বিডির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। মামলার নথিতে ঘটনার বিষয়ে বাদীপক্ষের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্য রয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, আদালতের নির্দেশনার পর মঠবাড়িয়া থানায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মামলাটির বর্তমান তদন্ত-অবস্থা, পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এবং আদালতে এর অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, কোনো মামলায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা এবং আদালতে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। মামলার চূড়ান্ত দায়-দায়িত্ব বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
শামীম পহলানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি চাল চুরি বা আত্মসাতের অভিযোগের কথাও সামনে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সরকারি চাল সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়েও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
তবে সরকারি চাল সংক্রান্ত অভিযোগের সুনির্দিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো তালাশ বিডির হাতে আসেনি। ফলে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
সরকারি চালের বিষয়টি নিয়ে কোনো মামলা, প্রশাসনিক তদন্ত বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন রয়েছে কি না—তা জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্য যাচাই করছে তালাশ বিডি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শামীম পহলান বিএনপির নাম ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তবে শামীম পহলানের বিএনপিতে কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি রয়েছে কি না কিংবা দলীয়ভাবে তাঁর কোনো দায়িত্ব বা সাংগঠনিক অনুমোদন আছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটি দলীয় নথি ও দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
সাপলেজা বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষককে আহত করার মামলার তথ্য, সরকারি চাল নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগসহ সামগ্রিক বিষয়টি জনস্বার্থে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের নজরে এনেছে তালাশ বিডি।
তালাশ বিডির পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ খুদে বার্তার মাধ্যমে সংসদ সদস্যকে বিষয়টির বিস্তারিত জানানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করবেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাপলেজা বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, অর্থ দাবির অভিযোগের সত্যতা আছে কি না, অসুস্থ গরুর অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি পরীক্ষা হয়েছিল কি না, একই স্থানে নতুন দোকান কীভাবে চালু হলো, মাদ্রাসা শিক্ষককে আহত করার মামলার বর্তমান অবস্থা কী এবং সরকারি চাল সংক্রান্ত অভিযোগের পেছনে কোনো নথি বা তদন্ত রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
তাই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ, প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।