বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপে বাড়ছে প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকসহ সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর তাঁর নীতির বাস্তব ফলাফল ও রাজনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করানোর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এসব অবস্থানের বিপরীতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের বিষয়ে কয়েকটি মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বলেন, তাঁর দেশ চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না; একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানান।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও বড় কোনো চুক্তির ঘোষণা আসেনি। দুই দেশের বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের আগে বাণিজ্যিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের পর বড় ধরনের নতুন সমঝোতার পরিবর্তে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি আরও কিছু সময় ধরে রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।

ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চলমান সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও চাপ তৈরি করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও ট্রাম্প দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলে ট্রাম্পের রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আরও সীমিত হতে পারে—এমন বিষয়ও রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি থমকে যাওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বাস্তব ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর প্রকৃত ফলাফল আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *