পেঁয়াজ-রসুন খাওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক:

পেঁয়াজ ও রসুন আমাদের দৈনন্দিন খাবারের পরিচিত দুটি উপাদান। রান্নায় স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে এগুলোর ব্যবহার বহুল প্রচলিত। তবে পেঁয়াজ-রসুন খাওয়ার পর মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে ইসলামে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসল্লিদের কষ্টের কারণ হয়—এমন দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে আসতে নিষেধ করেছেন।

সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের থেকে বা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে এবং নিজের ঘরে অবস্থান করে। একই বর্ণনায় রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুর্গন্ধযুক্ত খাবারের কারণে অন্যদের কষ্ট না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন।

সহিহ মুসলিমের আরেক বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রসুন খায়, সে যেন মসজিদের কাছে না আসে এবং রসুনের দুর্গন্ধ দিয়ে অন্যদের কষ্ট না দেয়।

আরেক হাদিসে হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, পেঁয়াজ ও পেঁয়াজজাতীয় তীব্র গন্ধযুক্ত উদ্ভিদ খাওয়ার পর মসজিদে না আসতে বলা হয়েছিল। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মানুষ যেমন দুর্গন্ধে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও তেমন কষ্ট পান।

এখানে বিষয়টি শুধু খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং অন্য মুসল্লির প্রতি সম্মান ও মসজিদের পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখার শিক্ষাও রয়েছে। কেউ এমন খাবার খেয়ে মসজিদে গেলে তার মুখের দুর্গন্ধে পাশে থাকা মুসল্লিদের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত বা ইবাদতে অসুবিধা হতে পারে।

হাদিসগুলোর আলোকে বিষয়টি বুঝতে হলে পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া এবং দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে যাওয়াকে আলাদা করে দেখতে হয়। সহিহ মুসলিমে এমন বর্ণনাও রয়েছে, যেখানে পেঁয়াজ বা রসুন খাওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে এবং মূল নিষেধাজ্ঞা ছিল দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে।

অর্থাৎ, পেঁয়াজ বা রসুন খাওয়াকে সরাসরি হারাম ঘোষণা করার পরিবর্তে হাদিসে তীব্র দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হয়ে অন্যদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে, রান্না করা সবজিতে পেঁয়াজ বা অনুরূপ উপাদানের গন্ধ পাওয়া গেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি লক্ষ্য করেন। অন্য একটি বর্ণনায় হজরত উমর (রা.)-এর বক্তব্যে রান্না করে পেঁয়াজ-রসুনের গন্ধ কমিয়ে নেওয়ার কথাও পাওয়া যায়।

এ থেকে বোঝা যায়, খাবার খাওয়ার পর যদি দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়, তাহলে মূল সমস্যা আর থাকে না। তাই পেঁয়াজ-রসুন খাওয়ার পর মিসওয়াক, দাঁত পরিষ্কার, মুখ ধোয়া বা দুর্গন্ধ দূর করার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

ইসলামে মসজিদকে ইবাদতের পবিত্র স্থান হিসেবে সম্মান করার পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত অন্য মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষাও দেওয়া হয়েছে। একজন মুসল্লির এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যার কারণে পাশে থাকা অন্য মুসল্লির নামাজ বা ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনায় তাই শুধু পেঁয়াজ-রসুন নয়, যে কোনো তীব্র দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশের বিষয়ে সতর্কতা পাওয়া যায়। সহিহ মুসলিমের অধ্যায়ের বর্ণনাতেও রসুন, পেঁয়াজ, লিক বা এ ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত খাবারের প্রসঙ্গ এসেছে।

পেঁয়াজ বা রসুন খাওয়ার পর নামাজের সময় হলে একজন মুসল্লির উচিত নিজের মুখের দুর্গন্ধের বিষয়টি খেয়াল রাখা। বিশেষ করে জামাতে নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার আগে দুর্গন্ধ থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করা উচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এসব নির্দেশনার অন্যতম শিক্ষা হলো—নিজের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি অন্য মানুষের স্বস্তি ও ইবাদতের পরিবেশের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া। তাই পেঁয়াজ-রসুন খাব কি না, সেটি এক বিষয়; আর তা খেয়ে অন্য মুসল্লির কষ্ট হয় এমন অবস্থায় মসজিদে যাওয়া আরেক বিষয়।

সারকথা: পেঁয়াজ-রসুন খাওয়াকে সাধারণভাবে নিষিদ্ধ করার কথা হাদিসে মূল বিষয় হিসেবে আসেনি; বরং এর তীব্র দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে এসে অন্য মুসল্লি ও ফেরেশতাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমে একাধিক সহিহ বর্ণনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *