র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবির যাত্রা শুরু: যেসব পরিবর্তন আসছে

অনলাইন ডেস্ক:

এলিট ফোর্স র‍্যাব বিলুপ্তির পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। নতুন আইনের অধীনে গঠিত হলেও বাহিনীটির মূল কাঠামো ও কার্যক্রমে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বাহিনীর নাম ও পরিচিতিতে। এখন থেকে সরকারি কাজে ‘র‍্যাব’-এর পরিবর্তে ‘এসআরবি’ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি লোগো, পোশাক ও পতাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

র‍্যাবের নেতৃত্ব, জনবল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল, অবকাঠামো এবং সার্বিক কার্যক্রম নতুন সংস্থা এসআরবির অধীনে চলে গেছে।

এ ছাড়া ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার, জব্দ, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ পরিচালনার মতো ক্ষমতাগুলোও মূলত র‍্যাবের আগের ক্ষমতার অনুরূপ রাখা হয়েছে।

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬-এর অধীনে নতুন নামে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে বাহিনীটি পুরোনো এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯) অধ্যাদেশের আইনি কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসেছে।

নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

র‍্যাবের কাঠামো নিয়ে অন্যতম বড় বিতর্ক ছিল সশস্ত্র বাহিনীর—সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর—সদস্যদের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে যুক্ত করা। নতুন এসআরবি আইনেও সশস্ত্র বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সমালোচনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাহিনীটির পুরোনো জনবল, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা বহাল রেখে কেবল নাম ও আইন পরিবর্তন করায় এর কার্যক্রমে মৌলিক কোনো রূপান্তরের সুযোগ সীমিত।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নাম পরিবর্তন করলেই যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে এসআরবি ঝুঁকিমুক্ত হবে না। বরং তারা এটিকে র‍্যাবের উত্তরসূরি হিসেবে দেখতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার একটি দীর্ঘ ও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে যায় না। যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংস্থার কার্যক্রমের ওপর নজর রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর ভাষ্যমতে, কঠোর তদারকি ও জবাবদিহির নতুন বিধান অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সহায়ক হবে।

এসআরবির মহাপরিচালক হাসান হাবীব পলাশ বলেন, নাম পরিবর্তন হলেও কাজের ধারাবাহিকতায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। বরং জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর দিকে তারা এগোচ্ছেন। বিদেশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, কাগজে-কলমে র‍্যাব বিলুপ্ত হলেও বাস্তবে এসআরবি নতুন মোড়কে পুরোনো বাহিনীই থেকে যাচ্ছে। কারণ দুই বাহিনীর মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই বলে তিনি মনে করেন।

২০০৪ সালে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও বিডিআরের সমন্বয়ে গঠিত র‍্যাব শুরুতে সন্ত্রাস দমনে প্রশংসিত হলেও পরবর্তী সময়ে ক্রসফায়ার, গুম ও ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালার মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়ায়।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবিও জোরালো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *