কতোয়ালি থানা এলাকায় রিগ্যাল ও বরিশাল হোটেলে অবৈধ দেহ ব্যবসার অভিযোগ

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কতোয়ালি থানার আওতাধীন সিনেমা প্যালেস এলাকায় দুটি আবাসিক হোটেলে অবৈধ দেহ ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিনেমা প্যালেসের পাশে হোটেল বরিশাল এবং পুরাতন গির্জার পাশে রিগ্যাল হোটেলে পুলিশকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী অভিযোগ করে বলেন, রিগ্যাল হোটেলে এক রাতে কাজ করে তিনি ৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। তার দাবি, হোটেলগুলোতে নিয়মিতভাবে নারীদের আনা-নেওয়া করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার এসব হোটেলে অভিযান পরিচালনা করেছেন। অভিযানের পর কিছুদিনের জন্য হোটেলগুলোর কথিত অপকর্ম বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবারও তা শুরু হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একাধিকবার হোটেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য সতর্ক করা হলেও তাতে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন হয়নি। প্রতিবেদকের দাবি, গত বৃহস্পতিবার গোপনে তদন্ত করে হোটেল বরিশাল ও রিগ্যাল হোটেলে আবারও জমজমাটভাবে কথিত দেহ ব্যবসা চলার বিষয়টি দেখতে পান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সদস্য শান্ত ইসলাম বলেন, আন্দোলনের পর তারা বিভিন্ন হোটেলে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তার দাবি, সে সময় হোটেলগুলোতে দেহ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধ ছিল। শান্ত ইসলাম আরও বলেন, “হোটেলগুলো অপকর্মে লিপ্ত থাকায় আমরা তাদের ধরে পুলিশের হাতে দিয়েছিলাম।” তার অভিযোগ, পরবর্তীতে আবারও হোটেলগুলোতে আগের মতো দেহ ব্যবসা শুরু হয়েছে।

অন্য এক নারীও হোটেলগুলোতে দেহ ব্যবসার অভিযোগের কথা স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন রাতে প্রায় পাঁচজন নারী হোটেলে আসেন এবং ভোরবেলা চলে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কাজে পাওয়া অর্থের পুরোটা নারীরা পান না; হোটেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত টাকা নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক হোটেলের আড়ালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললে এলাকার সামাজিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে হোটেল দুটিতে অবৈধ দেহ ব্যবসা এবং পুলিশকে ম্যানেজ করার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ ও কতোয়ালি থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *