এইচ-১বি ভিসা : বিদেশি কর্মী ইস্যুতে কোম্পানিগুলোকে সতর্কবার্তা ভ্যান্সের

এইচ-১বি ভিসার আওতায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিংবা দেশটিতে ব্যবসা রয়েছে— এমন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। কোনো কোম্পানি আইনের অপব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রে সেই কোম্পানির ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যাবে বলে হুমকিও দিয়েছেন ভ্যান্স।

গত কাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিবার্তায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “সরকার এমন সব উপায় খতিয়ে দেখছে যার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি কর্মী সংকটের অজুহাত দেখানো থেকে বিরত রাখা যায়। এমন অনেক কোম্পানি আছে, যারা এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে এবং বলে, ‘আমাদের কর্মীর খুব প্রয়োজন, আমরা কর্মী খুঁজে পাচ্ছি না।’ অথচ তাদের কার্যক্রমের রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যায়, ভিসার আবেদনের কিছু দিন আগেই তারা হয়তো ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ব্যাপরটি সত্যিই হাস্যকর।”

গত ১৮ সেপ্টেম্বর একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আদেশে বরা হয়েছে, এখন থেকে কোনো কোম্পানি এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করলে সেই আবেদন তা পর্যালোচনা করার সময় করার সময় ওই কোম্পানির কর্মী ছাঁটাইয়ের রেকর্ড আমলে নেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভ্যান্সের ভিডিওবার্তাটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত সেই আদেশের ব্যাখ্যা।

এইচ-ওয়ান বি একটি বিশেষ ভিসা কর্মসূচি, যার আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো অস্থায়ীভাবে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বা প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর ৮৫ হাজার বিদেশি কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

মূলত বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল বিদ্যা এবং ব্যাবসায় প্রশাসনে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয় এ ভিসার আওতায়। যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য বলছে, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল, গুগল প্রভৃতি কোম্পানিগুলো এই ভিসা কর্মসূচির সবচেয়ে বড় লাভবান বা সুবিধাভোগী। শত শত বিদেশি কর্মী এসব কোম্পানিতে কাজ করেন।

এতদিন এই প্রোগ্রামে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে ভিসা ফি বাবদ প্রতি বছর ১ হাজার ৫০০ ডলার ফি দিতে হতো। গত বছর সেপ্টেম্বরে সেই ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *