মোঃ আনজার শাহ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে চলমান প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ফেনী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। এ সময় তিনি সফরস্থলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ মাঠ এবং ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ পরিদর্শন করেন।
সেখানে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ফেনীবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
মুহুরী নদীর তীরে প্রস্তুতি পরিদর্শন:
পরে জাকারিয়া তাহের সুমন পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং প্রস্তাবিত পথসভাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও জনসম্পৃক্ততার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পরশুরাম ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সফরটি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বন্যা-জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির প্রত্যাশা:
মুহুরী–কহুয়া নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের দুর্ভোগ লাঘবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী।
‘মুহুরী–কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন প্রথম পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে মানুষের জানমাল ও কৃষিজমি আরও সুরক্ষিত হবে।
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “পানি শুধু মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অপরিহার্য নয়; একটি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা সরাসরি সম্পৃক্ত। বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো গেলে কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।”
গুণগত মান ও পরিবেশের ভারসাম্যে গুরুত্ব:
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান, পরিবেশগত ভারসাম্য ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় মানুষের মতামত ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই ফেনীর মানুষকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষা দিতে। প্রধানমন্ত্রীর সফর এ অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করি।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা, জনসমাগম, যোগাযোগব্যবস্থা ও অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।