ইসরায়েলগামী বিমানে ছিনতাইচেষ্টা, ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে যা বললেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটে পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার ঘটনায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, সৌদি আরবে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীকে পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হস্তান্তর করা হতে পারে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার দুবাই থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি আকস্মিকভাবে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এ সময় পাইলটের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন। এরপর বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনায় আহত ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, বিমান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হামলাকারীকে তিনি ঘাড় চেপে ধরেন। পরে অন্য যাত্রীরাও তাকে চেপে ধরে আটকে ফেলেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ঘটনার বিষয়ে পাইলটকে সৌদি আরবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, গুরুতর আহত হওয়ার পরও পাইলট প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ পান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও পাইলটের প্রশংসা করে বলেন, গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি অন্যদের জীবন বাঁচাতে সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘটনাটিকে মানুষের ঐক্য ও সাহসিকতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি বড় ধরনের একটি দুর্ঘটনা এড়ানোর ঘটনা এবং পাইলটের সাহসের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

নেতানিয়াহু সিএনএনকে জানান, ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করা ওই ফ্লাইটে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন কোনো আগাম সতর্কতা বা গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলের কাছে ছিল না।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি অ্যারাবিক জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন হামলাকারীর বিমানটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে জানতে তেল আবিবে পৌঁছানোর পর যাত্রীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটির উচ্চতা দ্রুত কমে যাওয়ার তথ্য ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এ দেখা যায়।

এর কয়েক মিনিট পর বিমানটি জরুরি বার্তা পাঠায় এবং ৭৫০০ কোড ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের সতর্ক সংকেত দেয়। প্রায় ২০ মিনিট পর বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণের জন্য ম্যানুয়ালি নিচে নামতে শুরু করে। পরে আবার ৭৭০০ জরুরি সংকেত কোডে ফিরে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *