নিজস্ব প্রতিবেদক
দারিদ্র্য ও বঞ্চনার অন্ধকার পেরিয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাতে ৭৭টি সহযোগী সংস্থাকে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন। নিয়মিত ও বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় দেওয়া এ অর্থের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫ হাজার ২৭০ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু। সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, অনুদানের অর্থে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি পালন, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং তাঁদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
প্রান্তিক মানুষের হাতে জীবিকার উপকরণ তুলে দিয়ে তাঁদের আত্মনির্ভর করে তোলাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিতভাবে ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনুদানের অর্থ ব্যবহার করা গেলে উপকারভোগীদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, বাড়বে পারিবারিক আয় এবং শক্তিশালী হবে সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দারিদ্র্য ও বঞ্চনার চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্থায়ী জীবিকার সুযোগ এবং উৎপাদনমুখী উদ্যোগ। এ অনুদানের মাধ্যমে সহযোগী সংস্থাগুলো স্থানীয় বাস্তবতা, জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
তাঁরা আরও বলেন, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্বল্পআয়ের পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত আয়ের পথ খুলে দিতে পারে। এসব উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি স্যানিটেশন প্রকল্প জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দেশের দরিদ্র, পশ্চাৎপদ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুদানের অর্থ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যবহার করা গেলে এর সুফল বহুদূর বিস্তৃত হবে। এতে শুধু ৫ হাজার ২৭০ উপকারভোগীর জীবনেই পরিবর্তন আসবে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক উন্নয়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অনুদানপ্রাপ্ত সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রান্তিক মানুষের হাতে জীবিকার উপকরণ তুলে দিয়ে তাঁদের স্বাবলম্বিতার পথ সুগম করার এ উদ্যোগকে একটি মানবিক, টেকসই ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন সংশ্লিষ্টরা।