নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ঘিরে মাঠে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দিন-তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও মেয়র পদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের নেতারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের খসড়া বিধিমালায় যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আওয়ামী লীগসহ যেকোনো দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল। ফলে সেলিনা হায়াৎ আইভীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ২০১১ সালের প্রথম সিটি নির্বাচনে তিনি নাগরিক সমাজের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানকে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ২০২২ সালের নির্বাচনেও বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে পরাজিত করে তৃতীয়বার মেয়র হন আইভী।

২০২৬ সালের সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকেও একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল ইসলাম সানির নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন খানকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, তাকে নগরবাসীর সেবা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কাজের গতি ও সমস্যা সমাধানে আরও কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হবে। দল মনোনয়ন দিলে তিনি আশাবাদী এবং দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং মেয়র পদে দলের সমর্থন চান। দলের জন্য তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নাম ঘোষণা করেছে। তিনি দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য।

আবদুল জব্বার বলেন, নগরবাসীর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে যানজট, জলাবদ্ধতা, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন প্রার্থীকে নগরবাসী মেয়র হিসেবে দেখতে চান বলে তিনি মনে করেন।

এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী এবং জেলা আহ্বায়ক যুবাইর সরদারের নাম আলোচনায় রয়েছে। শওকত আলী জানান, মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে রয়েছেন।

অন্যদিকে যুবাইর সরদার বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে রয়েছে। বর্ধিত এলাকার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে তিনি দলের কাছে মেয়র পদে মনোনয়ন চাইবেন।

খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এবিএম সিরাজুল মামুন এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মাওলানা মাছুম বিল্লার নামও আলোচনায় রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখার কারণে নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। আগামী সিটি নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। তবে নির্বাচনের তফসিল ও প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *