আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন, সাধারণ সদস্য: এটিএম আজহার

রংপুর ব্যুরো:

বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা নন, তিনি দলের প্রাথমিক বা সহযোগী সদস্য—এমন দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, আখতারুজ্জামান ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে যোগ দিয়ে প্রাথমিক সহযোগী সদস্য হওয়ার ফরম পূরণ করেছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে প্রাথমিক বা সহযোগী সদস্য হওয়ার পর সাংগঠনিকভাবে কর্মী, সদস্য এবং পরবর্তী ধাপে নেতা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে আখতারুজ্জামান বর্তমানে সাধারণ সদস্য মাত্র; তাঁর কোনো দলীয় পদ নেই বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে ১৩ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। শুধু অন্যান্য অঞ্চলের সমান বরাদ্দ দিয়ে এ বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়; পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ বরাদ্দ ও পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রয়োজন।

১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগে গ্যাস সরবরাহ চালু, দ্রুতগতির ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা, রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপন এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।

কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আধুনিকায়ন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবিও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বিভাগের জেলা শহরগুলোকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথাও বলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, নদীভাঙন ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কঠিন শিলার চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন সীমিত। দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে গতি আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে কার্যকর উৎপাদন ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মতামত ও অভিযোগ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন কোনো রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খান, জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *