বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ও শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবের মধ্যে ফেসবুকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের পর রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট নিয়ে অবস্থান নেন আহসান হাবিব ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একই স্থানে অবস্থান করেন রাকিবুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর তিনি সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আহসান হাবিব সেখানে না আসায় বিকেল ৫টার পর রাকিবুল স্থান ত্যাগ করেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আহসান হাবিব ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা পরিবহন চত্বরে আসেন। তাঁদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট দেখা যায়।
ঘটনার সূত্রপাত ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। আহসান হাবিব ওই গ্রুপে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানান।
ওই পোস্টে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম মন্তব্য করেন। তিনি আহসান হাবিবের তোলা অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানান এবং মন্তব্যটি নিয়ে আপত্তি তোলেন।
রাকিবুলের দাবি, ওই মন্তব্যের পর আহসান হাবিব তাঁকে মেসেঞ্জারে হুমকি দেন। পরে কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। স্ক্রিনশটে আহসান হাবিবের পক্ষ থেকে আপত্তিকর ভাষা ও তাঁকে সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ দেওয়ার কথা দেখা যায়।
এর জবাবে রাকিবুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে থাকবেন এবং আহসান হাবিবকে সেখানে আসার আহ্বান জানান।
রোববার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাকিবুল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরিবহন চত্বরে অবস্থান করেন। তবে এ সময় আহসান হাবিব সেখানে যাননি। পরে রাকিবুল চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় আহসান হাবিব সেখানে উপস্থিত হন।
রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিনি সকাল থেকেই পরিবহন চত্বরে ছিলেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আহসান হাবিবের দেখা পাননি। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর চলে যাওয়ার পর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী হকিস্টিক নিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব বলেন, সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের ফটোকার্ড ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ গ্রুপে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে রাকিবুল ইসলাম তাঁকে এবং তাঁর মা-বোনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রাকিবুলকে মেসেঞ্জারে তাঁর সামনে আসতে বলেছিলেন।
আহসান হাবিব আরও বলেন, অসুস্থ থাকায় রাকিবুলের দেওয়া অবস্থানের পোস্ট তিনি সময়মতো দেখতে পারেননি। পোস্টটি দেখার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে এলেও রাকিবুলকে আর পাননি। তিনি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিকেলের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি জানতে পেরেছে এবং সংশ্লিষ্টদের নিবৃত্ত করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে।
পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও হকিস্টিক-বেসবল ব্যাট নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।