ইসরাইলে বিমান বিধ্বস্তের পরিকল্পনা ছিল ফ্লাইদুবাই সহ-পাইলটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেনকে কুঠার দিয়ে হামলার পর বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এমন দাবি করা হয়েছে।

ওমানের নাগরিক ২৯ বছর বয়সী হামাম ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর সহ-পাইলট ছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে তিনি ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ককপিটের জরুরি কুঠার দিয়ে আঘাত করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেনকে হত্যার পর স্বাভাবিকভাবে বিমান চালিয়ে ইসরায়েলে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল হামামের। প্রয়োজনীয় অবতরণ অনুমতি পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনো ভবন বা অন্য একটি উড়োজাহাজে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

বিমানবন্দরে হামলা সম্ভব না হলে তেল আবিবের কোনো সুউচ্চ ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত করার বিকল্প পরিকল্পনাও ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামাম তদন্তকারীদের বলেছেন, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং তেল আবিবে কোন কোন এয়ারলাইন ফ্লাইট পরিচালনা করে তা খুঁজে দেখার পর ফ্লাইদুবাইকে বেছে নেন।

তবে তার পরিকল্পনা সফল হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা হামামকে নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল বলে রিকনস্ট্রাকশন ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামাম জুলাইয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এক সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এদিকে হামামের অতীত নিয়েও তদন্ত চলছে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানে তাকে আগে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল এবং তার কথিত উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে তার পরিচয় ও কথিত মতাদর্শ নিয়ে সব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। হামাম একা এই পরিকল্পনা করেছিলেন, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল—তাও তদন্তের অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *