আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ইরান ‘উচ্ছ্বসিতও নয়, ভীতও নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে সামরিকভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি কূটনীতির মাধ্যমেও আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
রোববার (৪ অক্টোবর) পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, ইরান পূর্ণ শক্তি নিয়ে সামরিক ময়দানে রয়েছে এবং প্রয়োজনে নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে ইরানি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে কূটনীতির পথও খোলা থাকবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের রোডম্যাপের জবাব যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দিয়েছে বলেও জানান গালিবাফ। তবে জুনে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান জানিয়েছিল, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা যেতে পারে। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে পরোক্ষ যোগাযোগও হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তেহরান বলছে, এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে হরমুজ প্রণালি খোলার প্রশ্নে তারা অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও জানিয়েছেন, তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান আত্মরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। ফলে প্রণালিটির ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও নৌপরিবহন পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলছে।