স্পোর্টস ডেস্ক:
এশিয়ার ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। ২০৩০ সাল থেকে দুই বছর পরপর ‘এএফসি নেশনস লিগ’ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বও যুক্ত থাকবে।
ইএসপিএনের হাতে আসা খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, এএফসির ৪৭ সদস্য দেশকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে থাকবে ১৮টি করে দল। তৃতীয় স্তরে থাকবে ১১টি দল, যাদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ মৌসুমে একটি পাইলট টুর্নামেন্ট আয়োজনের পর ২০৩০ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেশনস লিগ চালু হতে পারে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সঙ্গে যুক্ত নেশনস লিগের প্রথম আসর ২০৩২-৩৩ মৌসুমে আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম স্তরের ১৮ দল তখন ছয়টি করে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। অর্থাৎ প্রতিটি দল মোট ১২টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
এই আসরে প্রথম স্তরের শীর্ষ ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। সপ্তম থেকে দশম স্থানে থাকা চার দল বাকি দুটি সরাসরি বিশ্বকাপের জায়গার জন্য রাউন্ড-রবিন প্লে-অফ খেলবে। প্লে-অফের শীর্ষ দুই দল বিশ্বকাপে যাবে, আর তৃতীয় দল খেলবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে।
অন্যদিকে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের সঙ্গে যুক্ত নেশনস লিগের প্রথম আসর ২০৩০ সালে আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি দল তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। প্রথম স্তরের সব দল এবং দ্বিতীয় স্তরের সেরা ছয় দল এশিয়ান কাপের মূল পর্বে সরাসরি জায়গা পাবে। একই সঙ্গে এশিয়ান কাপ ২০৩১ থেকে পিছিয়ে ২০৩২ সালে নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
শুধু বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব নয়, নেশনস লিগের নিজস্ব চ্যাম্পিয়নও নির্ধারণ করা হবে। প্রথম স্তরের শীর্ষ আট দল নকআউট পর্বে খেলবে। কোয়ার্টার ফাইনাল হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হবে নির্দিষ্ট একটি ভেন্যুতে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় থাকবে নিয়মিত পদোন্নতি ও অবনমন। প্রতিটি স্তরের শীর্ষ দুই দল সরাসরি পরের উচ্চ স্তরে উঠবে এবং নিচের দুই দল নেমে যাবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পদোন্নতি ও অবনমনের জন্য প্লে-অফের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় এশিয়ার দেশগুলোকে অঞ্চল বা উপঅঞ্চলভিত্তিক আলাদা রাখা হবে না। এএফসির যুক্তি, বিভিন্ন অঞ্চলে দলের সংখ্যা সমান নয় এবং দলগুলোর শক্তির মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। তাই ড্রয়ের সময় দলগুলোকে বিভিন্ন পটে রাখা হবে এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ সূচি তৈরি করা হবে।
এএফসি আলাদা একটি নেশনস লিগ আয়োজনের ধারণা থেকে সরে এসে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতাটিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। এতে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য আলাদা সময় ও ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে খসড়া পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য নতুন বাস্তবতা
প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের জন্যও বদলে যাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাস্তবতা। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে—দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আলাদা কোনো আঞ্চলিক কাঠামো থাকবে না। পুরো এশিয়ার ৪৭টি দলকে একই তিন স্তরের কাঠামোর মধ্যে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
বাংলাদেশ কোন স্তরে খেলবে, তা নির্ধারণে ২০২৮-২৯ মৌসুমের প্রস্তাবিত পাইলট টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খসড়া অনুযায়ী, এই পর্যায়ে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের পরিবর্তে প্রাথমিক যৌথ বাছাইয়ের ফলাফল বিবেচনা করে দলগুলোর স্তর নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ যদি তৃতীয় স্তরে থাকে, তাহলে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের মূল পর্বে সরাসরি যাওয়ার পথ কঠিন হবে। কারণ বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত আসরে সরাসরি ছয়টি জায়গা থাকবে প্রথম স্তরের শীর্ষ ছয় দলের জন্য। এশিয়ান কাপের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের সব দল এবং দ্বিতীয় স্তরের সেরা ছয় দল সরাসরি মূল পর্বে জায়গা পাবে।
তবে নিচের স্তর থেকে ওপরে ওঠার সুযোগও থাকবে। প্রতি আসর শেষে ভালো ফল করা দলগুলো সরাসরি ওপরের স্তরে উঠতে পারবে। পাশাপাশি প্লে-অফের মাধ্যমেও উন্নীত হওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে ধাপে ধাপে উচ্চ স্তরে ওঠার পথ খোলা থাকবে।
নতুন কাঠামোর আরেকটি দিক হলো নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ। বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত আসরে দলগুলো মোট ১২টি করে ম্যাচ খেলবে। আর এশিয়ান কাপের সঙ্গে যুক্ত আসরে খেলবে ছয়টি ম্যাচ। ফলে বাংলাদেশের মতো দলগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়তে পারে।
তবে পুরো কাঠামোটিই এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এএফসি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করবে। ফলে বাস্তবায়নের আগে নিয়ম ও সূচিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।