ইসরায়েলে নির্বাচনের আগে ৭ অক্টোবর হামলার তৃতীয় বার্ষিকী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস ও এর সহযোগী প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র যোদ্ধাদের চালানো হামলার তৃতীয় বার্ষিকী বুধবার (৭ অক্টোবর) পালন করছে ইসরায়েল। হামলায় নিহতদের স্মরণে দেশটির বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকী পালিত হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনী আলোচনায় ওই হামলা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এর আগেও হামলার স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি হয়েছে। তবে সেসব সময় গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলছিল।

হামলায় নিহতদের স্মরণে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ২৯ মিনিটে, অর্থাৎ তিন বছর আগে যে সময়ে হামলা শুরু হয়েছিল, ঠিক সেই সময়ে গাজা সীমান্তের কাছে কিবুতজ কফার আজায় একটি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ওই হামলায় সেখানে ৬৪ জন বাসিন্দা নিহত এবং ১৮ জন অপহৃত হয়েছিলেন।

দক্ষিণ ইসরায়েলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হামলার ঘটনায় ৩৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ জিম্মি হয়েছিলেন।

এ ছাড়া বুধবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের একটি পার্কে হামলায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

উচ্চ সতর্কতায় নিরাপত্তা বাহিনী

নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এবং তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার এক সপ্তাহ পর এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার জানান, হামলার বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে গাজায় মোতায়েন ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামাসের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সেনাবাহিনীকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

এর আগে সোমবার রাষ্ট্রীয় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না। একই সঙ্গে ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত এবং জিম্মি আটকে রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

হামলার পর গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। হামলাকারীরা ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৪৪ জন ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির আগে মারা যান।

অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাস-নিয়ন্ত্রিত হলেও জাতিসংঘ তাদের প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।

হামলার পর গত তিন বছরে ইসরায়েল গাজার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও সামরিক কার্যক্রম বাড়িয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি ইরানকেন্দ্রিক উত্তেজনাতেও ইসরায়েল জড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজার মানবিক পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী কাঠামোয় বসবাস করছেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, তারা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং হামাসের হুমকি নির্মূল ও ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সেখানে ১ হাজার ৪৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *