স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্ক ভিটা) বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে পরিচালক পদে বিজয়ী করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, খামারে পশুখাদ্য কেনাকাটায় অনিয়ম, ওষুধের ভুয়া বিল তৈরি এবং মৃত বাছুরের চিকিৎসা দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে মিল্ক ভিটার সমবায় সমিতি বিভাগের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ডা. আক্তার হোসেন নোবেলের নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে। একদিকে নির্বাচনে জয়ী করার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের খামারে তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একাধিক অসংগতির তথ্য উঠে আসায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পরিচালক পদে জেতানোর আশ্বাসে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ
মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন-২০২৫-এ পরিচালক পদে বিজয়ী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেলটিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি মুক্তার খানের কাছ থেকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডা. আক্তার হোসেন নোবেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন মুক্তার খান। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে পরিচালক পদে জয়ী করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ডা. নোবেল তাঁর সঙ্গে ২০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে মোট ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৫ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত নাক-কান-গলা হাসপাতালের সামনে ডা. আক্তার হোসেন নোবেলের ব্যবহৃত সরকারি গাড়িতে নগদ ১০ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হয়। এ সময় খাওনা দরগা সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন মাস্টার উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী। সব মিলিয়ে তাঁর দাবি অনুযায়ী, পরিচালক পদে নির্বাচনে জয়ী করে দেওয়ার আশ্বাসে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
তবে অনিবার্য কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেলে মুক্তার খান তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এ সময় ডা. নোবেল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে নির্বাচনে বিজয়ী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনায় অভিযোগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এবং অর্থ লেনদেনের স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া না গেলে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
টেকেরহাট মহিষ খামারে কেনাকাটা ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অনিয়মের চিত্র
অন্যদিকে, মিল্ক ভিটার সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীঘাট দুগ্ধ কারখানার অধীন টেকেরহাট মহিষ খামারে খড় কেনা, পশুর চিকিৎসা, ওষুধ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন কেনাকাটায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উপব্যবস্থাপক বিদুর কুমার ঘোষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে খামারের বিভিন্ন রেজিস্টার, চিকিৎসার নথি, কেনাকাটার হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে অসংগতি ও জালিয়াতির একাধিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খামারে পশুর চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবহারের নথিতে এমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তদন্ত কমিটি মনে করেছে। বিশেষ করে মৃত বাছুরের চিকিৎসা দীর্ঘ সময় ধরে দেখানো, পশুর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি এবং ওষুধ ব্যবহারের অস্বাভাবিক বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে খামারের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, ওষুধ বিতরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত বাছুরের চিকিৎসা দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. মো. আক্তার হোসেনের দায়িত্বকালীন ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে খামারের পশুর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ট্যাগ নম্বর ৭৫৫-সংবলিত একটি বাছুরের মৃত্যুর তারিখ হিসেবে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই উল্লেখ রয়েছে। অথচ তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই বাছুরের চিকিৎসা ২০১৯ সালের ২ মে পর্যন্ত রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ ছিল। একটি প্রাণীর মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসার তথ্য নথিভুক্ত থাকার বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ ছাড়া, একটি বাছুরের চিকিৎসার নথিতে একই সঙ্গে ৫৮ ভায়াল সিপ্রোফ্লক্সাসিন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওষুধের পরিমাণ, প্রয়োগের যৌক্তিকতা এবং চিকিৎসার নথির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে নাম ও পরিচয়বিহীন একাধিক গাভী ও বাছুরের চিকিৎসা দেখানোর তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব নথির মাধ্যমে প্রকৃত চিকিৎসা ব্যয় দেখানো হয়েছিল, নাকি কাগজে-কলমে চিকিৎসার বিবরণ তৈরি করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে—তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার, ওষুধের মজুত, সরবরাহের চালান এবং আর্থিক লেনদেনের নথি যাচাই করা জরুরি।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে প্রাণীর পরিচয়, মৃত্যুর তারিখ, ওষুধের ব্যবহার এবং চিকিৎসার সময়কাল যথাযথভাবে যাচাই করা না হলে প্রতিষ্ঠানের অর্থের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মৃত প্রাণীর চিকিৎসা দেখানোর অভিযোগটি গুরুতর। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অর্থের হিসাব নিরূপণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খড় কেনার নামে ভুয়া গেট এন্ট্রি ও রেজিস্টার জালিয়াতির অভিযোগ
টেকেরহাট মহিষ খামারে পশুখাদ্য হিসেবে খড় কেনা ও সরবরাহের নথিতেও বিভিন্ন অসংগতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামারে খড় প্রবেশের হিসাব সংরক্ষণের জন্য মূল রেজিস্টার থাকার পরও আলাদা সাইড গেট এন্ট্রি রেজিস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মীর স্বাক্ষর ছাড়াই বিপুল পরিমাণ খড় খামারে প্রবেশ করেছে বলে নথিতে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ খড় কেনা হয়েছে, কতটা খামারে সরবরাহ করা হয়েছে এবং নথিভুক্ত হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুতের মিল ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, স্টক রেজিস্টারের তথ্য কাটাছেঁড়া করা এবং আঠা দিয়ে পাতা জোড়া লাগানোর মতো ঘটনাও নজরে এসেছে। এ ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে মজুতের হিসাব পরিবর্তন বা কাগজপত্রে ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি বা সমবায় প্রতিষ্ঠানের খামারে পশুখাদ্য কেনা ও মজুতের হিসাব স্বচ্ছ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কেনাকাটার অনুমোদন, সরবরাহকারীর চালান, গেট এন্ট্রি, নিরাপত্তাকর্মীর স্বাক্ষর এবং স্টক রেজিস্টারের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে এসব নথিগত অসংগতির বিষয় উঠে আসায় খড় কেনার প্রকৃত পরিমাণ, সরবরাহকারীদের পরিচয়, অর্থ পরিশোধের বিবরণ এবং খামারের মজুতের হিসাব পুনরায় যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিগুলোর মূল কপি, ক্রয়াদেশ, বিল-ভাউচার ও অর্থ পরিশোধের রেকর্ড পরীক্ষা করে অনিয়মের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
ফার্মেসি থেকে ঘাস কেনার নামে ৫০ হাজার টাকার কাল্পনিক ব্যয়ের অভিযোগ
খামারের কেনাকাটার হিসাবেও অস্বাভাবিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নন্দি ফার্মেসি’ নামের একটি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকার ঘাস কেনা হয়েছে বলে নথিতে দেখানো হয়। কিন্তু তদন্ত কমিটি ওই কেনাকাটাকে কাল্পনিক বলে উল্লেখ করেছে। একটি ফার্মেসি থেকে ঘাস কেনার নামে অর্থ ব্যয়ের হিসাব দেখানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত সরবরাহকারী কে ছিল, ঘাস সরবরাহের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না এবং বিলের বিপরীতে বাস্তবে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, সেসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ ধরনের কেনাকাটার নথিকে আর্থিক অনিয়মের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের ধরন, সরবরাহকারীর ব্যবসার প্রকৃতি, ক্রয়ের অনুমোদন, সরবরাহের প্রমাণ এবং বিলের সত্যতা যাচাই করা অপরিহার্য। এসব যাচাই ছাড়া কোনো ব্যয়কে বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে ৫০ হাজার টাকার কথিত ঘাস কেনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিল, ভাউচার, সরবরাহের রসিদ এবং অর্থ পরিশোধের নথি পরীক্ষা করে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা জরুরি।
ওষুধ কেনার হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে ওষুধ কেনার হিসাবেও বড় ধরনের অসংগতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকার ওষুধ কেনা হলেও নথিতে মোট ব্যয় দেখানো হয় ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রকৃত ক্রয়মূল্য হিসেবে উল্লিখিত অর্থের তুলনায় নথিতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পার্থক্যের পেছনে কোনো অতিরিক্ত কেনাকাটা, অন্য কোনো অনুমোদিত ব্যয় কিংবা হিসাবের ভুল ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টিকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়ম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে ক্রয়াদেশ, সরবরাহকারীর চালান, ওষুধ গ্রহণের রেজিস্টার, স্টক হিসাব, বিল-ভাউচার এবং ব্যাংক বা নগদ অর্থ পরিশোধের রেকর্ড পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। নথিতে প্রকৃত ক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি ব্যয় দেখানো হয়ে থাকলে অতিরিক্ত অর্থের গন্তব্য নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা শনাক্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে একই সময়ে ওষুধের ব্যবহার ও পশুর চিকিৎসার নথিতে অসংগতি পাওয়ার অভিযোগ থাকায় পুরো হিসাব ব্যবস্থার সমন্বিত নিরীক্ষা জরুরি হয়ে পড়েছে।
দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও অর্থ উদ্ধারের সুপারিশ
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। জালিয়াতি, ভুয়া ভাউচার, চিকিৎসার নথিতে অসংগতি এবং অর্থ ব্যয়ের হিসাব নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মিল্ক ভিটার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পাশাপাশি খামারের চিকিৎসা, পশুখাদ্য কেনাকাটা ও ওষুধের বিলসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ বা অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের যে অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডা. আক্তার হোসেন নোবেলের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতিই নয়, সমবায় ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সদস্যদের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সমবায় নেতারা।