সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ধনকুন্ডা থেকে যৌতুক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সজিব গ্রেফতার

সূর্য আহমেদ মিঠুন:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল ধনকুন্ডা এলাকা থেকে যৌতুক মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মো. সজিবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফতুল্লা থানা পুলিশের অনুরোধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গোদনাইল ধনকুন্ডা চেয়ারম্যান অফিস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার সজিব ফতুল্লা থানাধীন হাজীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি রাজু মিয়ার ছেলে। যৌতুক নিরোধ আইন, ২০০০-এর ৩ ধারায় দায়ের করা সিআর মামলা নং- ৫০১/২৬-এর প্রসেস নং- ১৭৩৬/২৬ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও তাঁর ফোর্সের সহযোগিতায় আসামি সজিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়ে হাজতে রাখা হয়। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লা থানার এসআই হামিদ খান উপস্থিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন

মামলার বাদী তানিয়ার অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক মাস পলাতক থাকার পর সম্প্রতি সজিব তাঁর বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তানিয়া অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী সজিব মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত কাজকর্ম করতেন না। যৌতুক ও মাদকের টাকার জন্য তাঁকে প্রায়ই মারধর করা হতো। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার করে সেই টাকা পরিশোধের দায়ও তাঁকে নিতে হতো। গার্মেন্টসে চাকরি করে নিজের উপার্জন থেকে সংসার চালানোর পাশাপাশি এসব ঋণ পরিশোধ করতে হতো তাঁকে।

তানিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের একমাত্র ছেলে তানজিদের পড়াশোনা, খাবার ও পোশাকসহ প্রয়োজনীয় খরচও যথাযথভাবে বহন করা হতো না। ফলে চাকরি করে একাই সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে তাঁকে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে।

আট মাস আগে ছেলেকে নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ

তানিয়া আরও অভিযোগ করেন, প্রায় আট মাস আগে রাতে যৌতুকের টাকার জন্য তাঁর স্বামী তাঁকে মারধর করেন। পরদিন অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি কাজে চলে যান। এ সুযোগে তাঁকে না জানিয়ে তাঁদের একমাত্র ছেলে তানজিদকে নিয়ে সজিব বাড়ি থেকে চলে যান। একই সঙ্গে ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তানিয়ার দাবি, বিয়ের সাড়ে নয় বছরে তাঁকে বহুবার যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও শারীরিকভাবে আঘাত সহ্য করতে হয়েছে। তাঁর শরীরে এখনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চান তানিয়া

তানিয়া বলেন, “আমি আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেতে চাই।”

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *