আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লেবানন সীমান্তের কাছে অবিস্ফোরিত একটি বিস্ফোরক হাতে নেওয়ার পর তা বিস্ফোরিত হয়ে এক ইসরায়েলি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন, যাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের একটি দলের শিক্ষা সফরের সময় এ ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ছোড়া হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের দলটি লেবানন সীমান্তের কাছে অবস্থান করছিল। এ সময় নিহত শিক্ষার্থী একটি অবিস্ফোরিত বস্তু হাতে নেন। এরপরই সেটি বিস্ফোরিত হয়।
ইসরায়েলের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মেইর ইলিয়াহু বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, কোনো ধরনের অবিস্ফোরিত বস্তু এক শিক্ষার্থীর হাতে বিস্ফোরিত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বস্তুটি হিজবুল্লাহর ছোড়া বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি ঠিক কবে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।
আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে
বিস্ফোরণের পর আহতদের সামরিক হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের তিনটি পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য কর্মকর্তারা আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
এ ঘটনার পর লেবানন সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধবিরতির পরও সীমান্তে অস্থিরতা
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পরও সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর পরিবর্তে লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাদের নির্ধারিত ‘ইয়েলো জোনে’ সরে যাওয়ার কথা ছিল।
সীমান্তের কাছে অবিস্ফোরিত বস্তু বিস্ফোরণে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা যুদ্ধের অবশিষ্ট বিস্ফোরকের ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। তবে বিস্ফোরকটির উৎস ও ঘটনার বিস্তারিত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।