আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলের বিতর্কিত জেরুজালেম শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাস চালু করেছে কলম্বিয়া। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অল্প কয়েকটি দেশের সঙ্গে একই অবস্থানে যুক্ত হলো দেশটি। জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনের এ পদক্ষেপকে শহরটির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল আরাবিয়ার।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দূতাবাসটির উদ্বোধন করা হয়। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো ইসরাইলে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রেখেছে। এসব দেশের অবস্থান হলো, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের মাধ্যমেই জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারণ করা উচিত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার দূতাবাসের অতিথি বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তিনি বলেন, ইসরাইল রাষ্ট্রের পাশাপাশি জেরুজালেম শহরের জন্যও দিনটি গুরুত্বপূর্ণ।
কলম্বিয়ার নতুন কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা গত জুলাইয়ে জেরুজালেমে দেশের দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বামপন্থি পূর্বসূরির নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগের সরকার গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছিল।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন। এর মাধ্যমে জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক অবস্থানে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শহরটিতে ইসরাইলের পার্লামেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি দেশও জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপন করে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ফিজি, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পাপুয়া নিউগিনি ও প্যারাগুয়ে। এ ছাড়া জাতিসংঘের সদস্য নয়—এমন কসোভো ও সোমালিল্যান্ডও জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাস হিসেবে বিবেচিত কার্যালয় খুলেছে।
ইসরাইলের প্রকাশ্য সমর্থক আর্জেন্টিনার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইও তাঁর দেশের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো জেরুজালেমের মর্যাদা। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। পরে অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেশটি। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ ইসরাইলের এ পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।
এদিকে গত আগস্টে কলম্বিয়ার নতুন সরকার গোলান মালভূমির ওপরও ইসরাইলের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে অঞ্চলটি দখল করে ইসরাইল। ১৯৮১ সালে গোলান মালভূমিকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করার ইসরাইলি পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের অবস্থান অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং বর্তমানে অঞ্চলটি ইসরাইলের দখলে রয়েছে।