নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বন্ধুর কাঠের বাটামের আঘাতে ইমদাদুল হক (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি নাইস খন্দকারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার নওদাবন্ডবিল গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। অভিযুক্ত নাইস খন্দকার একই এলাকার মৃত মজনু খন্দকারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন ইমদাদুল ও নাইস। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাইসের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর মায়ের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন ইমদাদুল। নাইসকে রাস্তায় রেখে তিনি তাঁর বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছে ছেলের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় নাইস কাঠের বাটাম হাতে নিয়ে ইমদাদুলকে ধাওয়া করেন। পালানোর সময় ইমদাদুল বাড়ির ভেতরে পড়ে গেলে তাঁর মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন তিনি।
দীর্ঘ সময় ইমদাদুল বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় স্বজনেরা তাঁকে খুঁজতে যান। পরে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েল ও ঘরের মাঝখানে বেড়ার পাশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে আলমডাঙ্গার ফাতেমা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে খাজানগর এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে অভিযুক্ত নাইসের মায়ের ভাষ্য, ইমদাদুল তাঁর বাড়িতে গিয়ে ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমদাদুল একটি লাঠি দিয়ে নাইসকে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ইমদাদুল পড়ে গেলে নাইস তাঁর মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন।
ঘটনার পর নাইস বাড়ি ছেড়ে লালব্রিজ এলাকায় চলে যান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে আটক করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি পাশের বধ্যভূমির দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধরে মারধর করেন তাঁরা। এরপর স্থানীয়রা তাঁকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয়রা জানান, ইমদাদুল বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। ফ্লাইট না হওয়ায় মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরে আসেন। তাঁদের দাবি, নাইস কোনো কাজ করতেন না এবং তাঁর মেজাজ ছিল উগ্র।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে নাইস খন্দকারকে একমাত্র আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শীতল বিশ্বাস বলেন, ইয়ারকির ছলে শুরু হওয়া কথা কাটাকাটি থেকে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নাইস বাটাম দিয়ে ইমদাদুলের মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এসআই শীতল বিশ্বাস আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।