মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ (প্রবারণা পূর্ণিমা) ২০২৬ ও ম্রাইমা সাক্রয় ১৩৮৮ উদ্যাপন উপলক্ষে বান্দরবানে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে উৎসব উদ্যাপন পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা। আগামী ২১ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা, মঙ্গল রথযাত্রা, ফানুস উত্তোলন ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বান্দরবানবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মৈত্রীময় শুভেচ্ছা জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে এসব কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
হ্যান্ডবল ও হাডুডু টুর্নামেন্ট দিয়ে শুরু কর্মসূচি
সাত দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম পর্বে ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উপলক্ষে হ্যান্ডবল ও হাডুডু টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিকেল ৩টায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন উৎসব উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য চনুমং।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ অক্টোবর শনিবার বিকেল ৩টায়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন-৩৪-এর সংসদ সদস্য মিসেস মাধবী মারমার। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা
উৎসবের অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর রোববার সকাল সাড়ে ৫টায় আয়োজন করা হয়েছে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য উঃ কে এস মংয়ের।
ম্যারাথন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ, শারীরিক সক্ষমতা ও অংশগ্রহণমূলক উৎসবের পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২৬ অক্টোবর মঙ্গল রথযাত্রা, প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলন
২৬ অক্টোবর সোমবার উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বিকেল ৫টায় বান্দরবানের পুরাতন রাজবাড়ী থেকে রাজগুরু বৌদ্ধবিহার (খ্যংওয়াক্যং) ও উজানীপাড়া রাজগুরু বৌদ্ধবিহার (খিয়াংফিয়াক্যং) পর্যন্ত দায়ক-দায়িকা এবং উপাসক-উপাসিকাদের পূজা উপলক্ষে মঙ্গল রথযাত্রা বের করা হবে।
এরপর সন্ধ্যা ৬টায় রাজগুরু বৌদ্ধবিহারে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন ও চুলামনি জাদির উদ্দেশে ফানুস উত্তোলন করা হবে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এ আয়োজন পালিত হবে। একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে পাড়াভিত্তিক পিঠা তৈরি উৎসব। এতে স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের আবহ ফুটে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
২৭ অক্টোবর রথযাত্রার মধ্য দিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠান
সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ দিন ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন দায়ক-দায়িকা ও সর্বসাধারণের পূজার উদ্দেশ্যে পুরাতন রাজবাড়ী থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন পাড়া প্রদক্ষিণ শেষে উজানীপাড়া খেয়াঘাটে পৌঁছাবে। এ রথযাত্রার মধ্য দিয়েই এবারের উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
উৎসব উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উক্যসিং মারমা ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এবারের মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উদ্যাপন বান্দরবানে আনন্দ, সম্প্রীতি, মৈত্রী ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে।