আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিহতদের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। এ ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী নংশুম ও খোংবাল থাংখুল জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করতে গেলে সশস্ত্র হামলার শিকার হন কয়েকজন। এতে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জড়ো হন।
মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের কারণে মণিপুরের পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতায় রাজ্যটিতে প্রায় ২৬০ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত এক মাসেই অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউ খেমচাঁদ সিং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ৯ ও ১০ অক্টোবর কামজং, কাংপোকপি ও উরখুল জেলায় সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হন। এর পর গত শনিবার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় গুলিতে কুকি সম্প্রদায়ের একজন নিহত এবং চারজন আহত হন। পরে ওই জেলার বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ২৮টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
গত রোববার রাতে থৌবাল জেলার খাঙ্গাবক গ্রামে একটি কনসার্ট চলাকালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের গুলিতে লাইশরাম রাকেশ নামে একজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় বেশ কিছু বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় থৌবাল জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ ও কারফিউ জারি করা হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় মণিপুরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ হামলার পর মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।