আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রানঅফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পেয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দফার নির্বাচনে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেলেন বামপন্থি এই নেতা।
ব্রাজিলের সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্টের চূড়ান্ত গণনা অনুযায়ী, লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বৈধ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ। ভোটের হিসাবে লুলা প্রায় ৪৪ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ২৬ অক্টোবর ব্রাজিলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ফলাফল ঘোষণা করে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে লুলা পেয়েছিলেন ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোট। কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়। সেখানে ফল উল্টে দিয়ে জয় পান লুলা।
ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। তাঁর বাবা ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের নির্বাচনের ফল উল্টে দিতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জইর বলসোনারো দণ্ডিত হন। এরপর এবারের নির্বাচনে তাঁর ছেলে ফ্লাভিও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
লুলার এই জয় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ডানপন্থিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে ভোট গণনার শেষ পর্যায় পর্যন্ত দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র। ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। ফ্লাভিও বলসোনারো ফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
লুলার এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চারটি পৃথক মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার নজির গড়লেন। তাঁর নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।