উচ্ছেদ অভিযানে হকারদের বাধা: নাসিক প্রশাসককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ, ধস্তাধস্তি, আটক ১

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে নগরীর শায়েস্তা খান সড়কে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানে বাধা দিয়ে হকাররা বিক্ষোভ করলে একপর্যায়ে নাসিক প্রশাসক এ এইচ এম সাখাওয়াত হোসেন খান অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। এ সময় হকার ও উচ্ছেদকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে।

রোববার রাতে নগরীর শায়েস্তা খান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নাসিক প্রশাসকের নেতৃত্বে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকর্মীরা সাধারণত বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন। তবে রোববার রাতে প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল শায়েস্তা খান সড়কে অভিযান চালায়। প্রশাসকের উপস্থিতিতে উচ্ছেদকাজ শুরু হলে হকাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা অভিযানে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে প্রশাসককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় হকার ও উচ্ছেদকর্মীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে সড়কজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় একজনকে আটক করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

অন্যদিকে, হকারদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তাঁদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা নাসিক প্রশাসকের অপসারণ দাবি করেছেন।

হকার নেতা রনি অভিযোগ করে বলেন, “নাসিকের প্রশাসক রাতে তাঁর বাহিনী নিয়ে এসে আমাদের ওপর আকস্মিক হামলে পড়েছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অনতিবিলম্বে তাঁর অপসারণ চাই।”

অন্যদিকে, সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরবাসীকে যানজট ও ফুটপাত দখলের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবং শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *