স্টাফ রিপোর্টার:
দারিদ্র্যের অন্ধকার পেরিয়ে স্বনির্ভরতার আলোয় পা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের ৩ হাজার ৩১৮ জন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। তাঁদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বনের লক্ষ্যে ৩৪টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)। এই অর্থে উপকারভোগীরা গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন ভবনে আয়োজিত অনুদান প্রদান সভায় কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু। সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য উপকারভোগীদের জন্য বিকল্প আয়ের পথ খুলে দেওয়া, পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করা। আয়োজকেরা মনে করেন, সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এসব ক্ষুদ্র উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।
আলোচনায় উঠে আসে, দারিদ্র্য বিমোচনে শুধু আর্থিক সহায়তাই যথেষ্ট নয়। সেই সহায়তাকে উৎপাদনমুখী কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের ভিত্তি গড়াও সমান জরুরি। এ কারণে উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ৩৪টি সহযোগী সংস্থার অংশগ্রহণকে এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুদানের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্পগুলোর নিয়মিত তদারকি এবং উপকারভোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এক নজরে অনুদান কর্মসূচি:
মোট অনুদান: ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
মোট উপকারভোগী: ৩ হাজার ৩১৮ জন
সহযোগী সংস্থা: ৩৪টি
প্রকল্পের ধরন: গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনসহ আয়বর্ধক কার্যক্রম
সংশ্লিষ্টদের মতে, আয়বর্ধক এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন উপকারভোগীদের জীবনে স্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। অনুদানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাই হবে এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী করার প্রধান শর্ত।