চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১২৯

কামরুল:

চট্টগ্রাম রেঞ্জজুড়ে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ১২৯ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ১১ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১১ জেলায় ৬৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৬১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৯২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, ২৪ ঘণ্টার এ অভিযানে নিয়মিত মামলায় ৮৬ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৬৮ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৪৪ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পাঁচজন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পরোয়ানামূলে ১৩৩ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক মামলায় ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মাদক বহনকারী এবং ৭৪ জন মাদকসেবী। পাশাপাশি নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় আরও ৪২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪৬৭টি ইয়াবা, ১৫৩ কেজি ৩৮০ গ্রাম গাঁজা, ৯১ লিটার চোলাই মদ, চার বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ২৮টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট।

মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১০ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রামের তিনজন, কুমিল্লার চারজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন এবং নোয়াখালীর দুজন রয়েছেন।

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কুমিল্লা জেলায় সর্বোচ্চ ৩৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১০১ জন, লক্ষ্মীপুরে ৫৪ জন, চাঁদপুরে ৩৭ জন, নোয়াখালীতে ৩০ জন, ফেনীতে ২৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ জন, রাঙামাটিতে ১৫ জন, কক্সবাজারে ১২ জন, খাগড়াছড়িতে আটজন এবং বান্দরবানে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

পুলিশের এ বিশেষ অভিযানকে অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *