মোহনগঞ্জে হেপি আক্তারকে ঘিরে বিরোধের অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুধদেবপুর গ্রামে হেপি আক্তার ও তাঁর স্বামী মো. কামাল মিয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গ্রামবাসী ও একটি ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লাল মিয়ার মেয়ে মোছা. হেপি আক্তার ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং একের পর এক মামলা দিয়ে বিপাকে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় একটি পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমির ক্ষেতের আইল বাঁধাকে কেন্দ্র করে প্রায় এক বছর আগে হেপি আক্তারের স্বামী মো. কামাল মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে মো. মোজাম্মেল মিয়ার বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তী সময়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে হেপি আক্তার ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, একটি জমির আইলসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনাকে ঘিরে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলা ও বিরোধের কারণে পরিবারের সদস্যরা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

মামলা ও হয়রানির অভিযোগে এলাকায় আলোচনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির ক্ষেতের আইল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন এবং মামলা দায়েরের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন বলে জানা গেছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বিরোধের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং এলাকার বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।

তবে হেপি আক্তার ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর প্রকৃত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

এলাকায় চলমান বিরোধের কারণে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

এ অবস্থায় নেত্রকোনা জেলার ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার, মোহনগঞ্জ থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধ কোনোভাবেই যেন বড় ধরনের সংঘাতের কারণ না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রকৃত ঘটনা যাচাই এবং আইনানুগ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে হেপি আক্তার ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *