সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদ ও দেয়াল ঘেঁষে ভবন নির্মাণ

স্টাফ রিপোর্টার:

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদ ও বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনটির বৈধতা, অনুমোদিত নকশা এবং প্রচলিত ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফুলবাড়ীর সচেতন নাগরিক সমাজ।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

২০২৩ সালের তদন্তের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৩ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপের কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে দেওয়া তদন্তসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নির্মাণকাজের বৈধতা ও বিধিমালা অনুসরণের বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগেও আপত্তি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে উদ্যোগের কথা থাকলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সেখানে নতুন করে ভবন নির্মাণের কাজ চলতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মসজিদ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মসজিদ এবং বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশ, নিরাপত্তা, আলো-বাতাস চলাচল এবং বিদ্যমান স্থাপনার সুরক্ষা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তাঁদের মতে, যেকোনো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নির্মাণ নকশা, নির্ধারিত দূরত্ব এবং প্রচলিত ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার পাশে নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে নির্মাণাধীন ভবনটি বিধিমালা লঙ্ঘন করছে কি না, তা এখনো প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য অনুমোদিত নকশা, জমির সীমানা এবং নির্মাণসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সরেজমিন তদন্ত ও নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি

এ অবস্থায় সচেতন নাগরিক সমাজ কয়েকটি বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

নির্মাণাধীন ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা।
ভবন নির্মাণের অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা।
বিদ্যালয় ও মসজিদের সীমানা থেকে ভবনটির অবস্থান ও দূরত্ব পরিমাপ করা।
প্রচলিত ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও পৌরসভার নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা।
২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের তদন্তসংক্রান্ত নির্দেশনার বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা।
তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

সচেতন নাগরিকদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষার প্রশ্ন জড়িত। তাই কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

তাঁরা ফুলবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

ছবি: সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদসংলগ্ন দেয়াল ও ভবন নির্মাণের ২০২৩ সালের এবং বর্তমান অবস্থার চিত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *