ধর্ষণ ও বলাৎকারের ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি ডিআইজি কুদ্দুছের

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো নৃশংস অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ধর্ষণের দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়; এ দায় সম্পূর্ণ অপরাধীর। বিশেষ করে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগ ও লজ্জার বিষয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমনবিষয়ক এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কক্সবাজার জেলা পুলিশ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, ধর্ষণের মতো অপরাধের শিকার একটি শিশু বেঁচে গেলেও তাকে দীর্ঘদিন ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণা ও ট্রমার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হয়। এ ক্ষতি কোনোভাবেই সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

শিশু ও কিশোরদের প্রতি যৌন সহিংসতার নতুন ও উদ্বেগজনক প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ডিআইজি বলেন, বর্তমানে ছেলে শিশুরাও বলাৎকার ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে। যারা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে এমন অপরাধের অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সন্তান ও শিক্ষার্থীদের কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডিআইজি বলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ছিনতাই ও মাদকসহ অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোররা যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অকারণে রাস্তায় আড্ডা দিতে দেখা গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানের চলাফেরা ও নিরাপত্তার বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। কেন সন্তান সন্ধ্যার পর বাইরে অবস্থান করছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম রেঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধী গ্রেফতারের অগ্রগতি তুলে ধরে ডিআইজি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে রেঞ্জের ১১টি জেলায় মাদক উদ্ধারের পরিমাণ দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। একই সময়ে আসামি গ্রেফতারের সংখ্যাও প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে এ রেঞ্জে মোট ৬০ হাজার আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সমাবেশে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ সম্প্রতি বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অপরাধ দমনে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *