নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’-এর প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার ও সংশোধনের দাবি ॥ সম্পাদিত অডিও ব্যবহার করে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ
অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় জড়িয়ে ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতকানিয়া পৌরসভার আমির হামিদ উদ্দিন আযাদ। প্রকাশিত সংবাদে তাঁর নাম, ছবি এবং সম্পাদিত অডিও কল রেকর্ড ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় সাতকানিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুব বিভাগের সভাপতি শাহারিয়া আহমদ ইমনকেও জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন হামিদ উদ্দিন আযাদ। তাঁর ভাষ্য, অবৈধভাবে মাটি কাটা কিংবা এ ধরনের কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই।
সম্প্রতি দেওয়া এক প্রতিবাদ ও স্পষ্টীকরণ বিবৃতিতে হামিদ উদ্দিন আযাদ বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তাঁর নাম, ছবি ও একটি অডিও কল রেকর্ড ব্যবহার করে যেসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিশেষ করে অডিও কল রেকর্ডটি খণ্ডিত ও সম্পাদিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর দাবি, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে শাহারিয়া আহমদ ইমনের বিষয়েও স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়। হামিদ উদ্দিন আযাদ দাবি করেন, শাহারিয়া আহমদ ইমনেরও ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতকানিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুব বিভাগের সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি সী-মেরিন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মেরিনার হিসেবে সুপারভাইজার পদে কর্মরত এবং একজন মানবিক সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে হামিদ উদ্দিন আযাদ বলেন, তিনি একটি বেসরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতকানিয়া পৌরসভার আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই না করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ না করেই একপক্ষীয় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং সব পক্ষের অবস্থান তুলে ধরা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান, সামাজিক অবস্থান ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ধরনের সংবাদ শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়, তাঁদের পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ অবস্থায় ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকাশিত সংবাদটি অবিলম্বে প্রত্যাহার অথবা প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন হামিদ উদ্দিন আযাদ। একই সঙ্গে সংবাদে তাঁর নাম, ছবি ও অডিও কল রেকর্ড ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সংশোধনী ও প্রতিবাদলিপি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণেরও দাবি জানান।
হামিদ উদ্দিন আযাদ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত সম্মান, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি কোনো মহলের প্ররোচনায় কিংবা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সংশ্লিষ্ট সংবাদ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, তাঁরা মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ নয়, বরং সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করেন।