মোঃআনজার শাহ
পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কুমিল্লার বরুড়ায় আজ রবিবার উদ্যাপিত হচ্ছে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস। ‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি উপলক্ষে বরুড়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বরুড়া উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বরুড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আমীর আলী।
জাতীয় সমবায় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আমীর আলী বলেন, ‘সমবায় হচ্ছে সম্মিলিত শক্তি ও পারস্পরিক আস্থার একটি কার্যকর মাধ্যম। এককভাবে যে কাজ অনেকের কাছে কঠিন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় তা সহজেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে বড় পুঁজিতে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো যায়। তাই সমবায়কে শুধু একটি সাংগঠনিক কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং আত্মনির্ভরশীল সমাজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমবায় আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সমবায় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। আমরা চাই, বরুড়ার প্রতিটি সমবায় সমিতি মানুষের কল্যাণে কাজ করুক এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখুক।’
সমবায় মূলত মানুষের সম্মিলিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি শক্তিশালী দর্শন। এখানে ব্যক্তির সামর্থ্য যুক্ত হয় সমষ্টির শক্তির সঙ্গে। সঞ্চয়, উৎপাদন, বিপণন, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সমবায় গ্রামীণ অর্থনীতির ভিতকে আরও মজবুত করতে পারে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমবায় কার্যক্রমের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, জাতীয় সমবায় দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরুড়ায় সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় আরও সুদৃঢ় হবে।
সমবায়ের মূল দর্শনই হলো, শক্তি, সহযোগিতাই সমৃদ্ধি। এই চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে পারলেই ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাবে।