বিআরটিএর ক্যাশিয়ার মেহেদীর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ফাতেমা খুরশিদ সোমায়া:

দুদকের তদন্ত দাবি

দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে কর্মরত বিআরটিএর ক্যাশিয়ার মেহেদীর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেহেদী। তাঁকে ঘিরে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিপুল সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি, জমি, প্লট ও গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর বৈধ আয় ও জীবনযাত্রার দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুবাদে কোনো ধরনের অনিয়ম, আর্থিক অসংগতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।

এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠনের সহসভাপতি অপরুন্নেসা পান্না এবং ক্রাইম রিপোর্টের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

তাঁদের দাবি, মেহেদীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের প্রকৃত হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর বিবরণী, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির মালিকানা এবং সম্পদ অর্জনের সময়কাল যাচাই করা হোক। পাশাপাশি তাঁর চাকরিজীবনের আয়, বৈধ উপার্জন এবং সম্পদের পরিমাণের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

বিআরটিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এই প্রতিষ্ঠানে আসেন। এসব সেবার সঙ্গে সরকারি ফি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয় জড়িত থাকায় ক্যাশ শাখার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট শাখার আয়-ব্যয়ের হিসাব, সরকারি অর্থ জমার রেকর্ড, রসিদ, ব্যাংক লেনদেন এবং দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলোও যাচাই করা প্রয়োজন। তবে মেহেদীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো আর্থিক অনিয়মের যোগসূত্র এখনো প্রমাণিত নয়।

দুদকের কাছে যেসব বিষয়ে তদন্তের দাবি

১. মেহেদীর চাকরিজীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত আয় ও সম্পদের হিসাব যাচাই।

২. নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ির মালিকানা অনুসন্ধান।

৩. ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন ও আয়কর বিবরণী পরীক্ষা।

৪. সম্পদ অর্জনের অর্থের বৈধ উৎস অনুসন্ধান।

৫. বিআরটিএর ক্যাশ শাখার আর্থিক কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা যাচাই।

৬. অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

আমরা মনে করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে ব্যক্তি বা পদবি নয়, বরং অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেউ অপরাধ করলে তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত। আবার যথাযথ তদন্ত ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।

অতএব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি—বিআরটিএর ক্যাশিয়ার মেহেদীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে সেটিও স্পষ্ট করা হোক।

দুর্নীতিমুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *