আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেল ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রোববার (৮ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় বাহিনীটি।
আইআরজিসির দাবি, রোববার ভোরে অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচলের সময় তিনটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। তবে ট্যাঙ্কারগুলোর নাম কিংবা কোন দেশের জাহাজ, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইরান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে তেহরান। ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অনুমোদিত পথ ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
অন্যদিকে, ইরানি বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচলে সহায়তা করছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শনিবার ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে একটি ট্যাঙ্কারে আগুন লাগে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক কর্তৃপক্ষ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কার ও এর কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। একই দিন অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরেকটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি নৌযান থেকে ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একই ঘটনার অংশ কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে আসছে তেহরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড গত মাসে জানিয়েছিল, গ্রীষ্মের পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে সম্প্রতি এ জলপথ থেকে সব ধরনের মাইন অপসারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
সূত্র: এএফপি।