অনুষ্ঠানের মধ্য থেকে মনোয়ার হোসেন জীবনকে RAB-2-এর হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ, পরিবারের দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার আদাবর থানা বিএনপির পরিচিত মুখ মনোয়ার হোসেন জীবনকে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় RAB-2-এর একটি দল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং বারবার ফোন করে সেখানে উপস্থিত হতে বলা হয়। পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে RAB-2-এর সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
মনোয়ার হোসেন জীবন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলেও তার পরিবার জানায়। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

মনোয়ার হোসেন জীবনের পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। এ সময় একাধিক হামলা-মামলার শিকার হন এবং ব্যক্তিগতভাবে নানা নির্যাতনের মুখোমুখি হন। তার দাবি, অতীতে তাকে গুমের চেষ্টাও করা হয়েছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তারা বলেন, বর্তমানেও তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

পরিবার আরও জানায়, নবোদা হাউজিং এলাকায় বিএনপি কর্মী আবুল বাশার হত্যাকাণ্ডের পর মনোয়ার হোসেন জীবন নিহতের পরিবার, স্ত্রী ও দুই সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের বক্তব্য, হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া মনোয়ার হোসেন জীবনকে হয়রানি করা হলে তা অন্যায় হবে।

পরিবারের দাবি, মামলার কিছু আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে তার নাম জড়ানো হয়েছে, যা তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা সাংবাদিক, মানবাধিকার সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

মনোয়ার হোসেন জীবনের পরিবার দাবি করেছে, তিনি নির্দোষ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তারা আশা করছেন। তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মূলধারার গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *